ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ: দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্যাডেট কলেজ

ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ: দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্যাডেট কলেজ

  • ক্যাডেট কলেজ পরিচিতি
ফাহিম শাহরিয়ার

ফাহিম শাহরিয়ার

September 16, 2026

ভূমিকা

খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলায় গড়ে ওঠা ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (JCC) বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্যাডেট কলেজ। ফৌজদারহাটের পর এটিই প্রথম নতুন সংযোজন, যা ষাটের দশকেই বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করেছিল।

ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা

১৯৬৩ সালের ১৮ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, এবং পরের বছর ১৯৬৪ সালে প্রথম ব্যাচের ক্যাডেটরা ভর্তি হন। জ্যেষ্ঠতার বিচারে এটি বাংলাদেশের সব ক্যাডেট কলেজের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন এন ডি হাসান।

অবস্থান ও ক্যাম্পাস

ঝিনাইদহ শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই কলেজের ক্যাম্পাস প্রায় ১০৩ একর জুড়ে বিস্তৃত। বিশাল সবুজ প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ ও শান্ত পরিবেশ এই কলেজকে শিক্ষার আদর্শ জায়গায় পরিণত করেছে।

শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল

যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিতভাবে ভালো ফল করে এবং জাতীয় পর্যায়ে কলেজের সুনাম বজায় রাখে।

সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ঐতিহ্য

কলেজের মূলমন্ত্র "সুশিক্ষিত জনই সুবিবেচিত" (The Learned Are Judicious)। সবুজ রঙ এই কলেজের প্রতীক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পরিচিত "জেসিসিয়ান" (JCCian) নামে। নিয়মিত পিটি-প্যারেড, খেলাধুলা, ইনটার-হাউজ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এখানকার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভর্তি প্রক্রিয়া

অন্য সব ক্যাডেট কলেজের মতোই সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রতি বছর জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লিখিত, মৌখিক ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

উপসংহার

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ দেশকে উপহার দিয়ে চলেছে মেধাবী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক। বাংলাদেশের শিক্ষা ইতিহাসে এই কলেজের অবস্থান চিরস্মরণীয়।


তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (jcc.army.mil.bd)

← সব আর্টিকেল পড়ুন