ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ: এক ঐতিহাসিক বিমানঘাঁটির নতুন পরিচয়
ভূমিকা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত একটি পরিত্যক্ত মার্কিন বিমানঘাঁটির জমিতে গড়ে উঠেছে ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ (FGCC)—ইতিহাস আর আধুনিক শিক্ষার এক অনন্য মিলনস্থল।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার পর মেয়েদের জন্য শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এবং ২০০২ সালে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার ফেনী ও জয়পুরহাটে দুটি নতুন গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪২ সালে নির্মিত একটি পরিত্যক্ত মার্কিন বিমানঘাঁটির একটি অংশ ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের জন্য নির্বাচন করা হয়। সামরিক প্রকৌশল সংস্থা (MES) ২০০৪ সালের ২৯ জুন থেকে নির্মাণকাজ শুরু করে এবং ২০০৬ সালের ৭ জুন কলেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন ফয়জুল হাসান।
অবস্থান ও ক্যাম্পাস
ফেনী সদর উপজেলায় অবস্থিত এই কলেজের ক্যাম্পাস প্রায় ৪৯.৫ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে।
শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উচ্চ একাডেমিক মান বজায় রেখেছে এবং প্রতি বছর এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ঐতিহ্য
কলেজের মূলমন্ত্র "মহৎ শিক্ষা উত্তম জীবন" (Noble Education Decent Life)। ক্রিস্টাল গ্রিন রঙ এই কলেজের প্রতীক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পরিচিত "FGCCian" নামে। ২০০৯ সালে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তঃগার্লস ক্যাডেট কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় (IGCCSM) এই কলেজ রানার্স-আপ হয়। সংগীত প্রতিযোগিতায়ও তারা ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের কাছে মাত্র ০.৫ পয়েন্টে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল।
ভর্তি প্রক্রিয়া
জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের সপ্তম শ্রেণিতে ক্যাডেট নির্বাচন করা হয়, যেখানে লিখিত, মৌখিক ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
উপসংহার
যুদ্ধকালীন এক পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটির জমিতে গড়ে ওঠা ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ আজ নারী শিক্ষার এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে, যা ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়কে রূপান্তরিত করেছে আশার প্রতীকে।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (fgcc.army.mil.bd)
