
জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ: সর্বকনিষ্ঠ ক্যাডেট কলেজের গল্প
ভূমিকা
বাংলাদেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ (JGCC)। জয়পুরহাট জেলায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান দেশের নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা
মূলত একটি প্রস্তাবিত সিমেন্ট কারখানার জন্য বরাদ্দ করা ১০০ একর জমির একটি অংশ (৫৭ একর) জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের জন্য নির্ধারণ করা হয়। ২০০৫ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজটি উদ্বোধন করেন। জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার তারিখের দিক থেকে বাংলাদেশের ১২তম ও সর্বশেষ ক্যাডেট কলেজ। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন মোঃ আবু সাইদ বিশ্বাস।
অবস্থান ও ক্যাম্পাস
জয়পুরহাট শহর থেকে ধামুরহাটের দিকে যাওয়ার সড়কের পাশে চকগোপাল ও দক্ষিণ খঞ্জনপুর গ্রামে অবস্থিত এই কলেজের ক্যাম্পাস প্রায় ৫৭ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে, যেখানে ৩২৬-৪৫০ জন শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত এই কলেজ ২০১০ সালেই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী বোর্ডের শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্থান করে নেয়—যা এই নবীন প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বিশাল অর্জন।
সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ঐতিহ্য
কলেজের মূলমন্ত্র "শিক্ষাই প্রগতি" (Education is Progress)। সবুজ রঙ এই কলেজের প্রতীক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পরিচিত "JGCCian" নামে। ২০০৯ সালে এই কলেজেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের প্রথম আন্তঃগার্লস ক্যাডেট কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা (IGCCSM)।
ভর্তি প্রক্রিয়া
জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে ক্যাডেট নির্বাচন করা হয়, যেখানে লিখিত, মৌখিক ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ক্যাডেটরা জাতীয় শিক্ষাক্রমের ইংরেজি ভার্সন অনুসরণ করে ছয় বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করে।
উপসংহার
দেশের সর্বকনিষ্ঠ ক্যাডেট কলেজ হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রমাণ করেছে যে বয়স নয়, প্রতিশ্রুতিবদ্ধতাই আসল সাফল্যের চাবিকাঠি।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (jgcc.army.mil.bd)
